১১ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

বিনোদন
ছবি বানিয়ে নিঃস্ব পরিচালক, এখন কাজ করেন হোটেলে
tea

নিউজ ডেস্কঃ সিনেমার নেশায় সব ছেড়েছিলেন। বিক্রি করেছেন নিজের বাড়ি, স্ত্রীর গয়না। তাতেও ছবির অর্থের জোগান না হওয়ায় সুদের ওপর ঋণ নিয়েছেন। এভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু, বদলাতে পারলেন না জীবনের গতিপথ। বলছিলাম বাংলাদেশের তরুণ পরিচালক অরণ্য পলাশের কথা। ভেবেছিলেন সিনেমা মুক্তি পেলে হয়তো দিন বদলাবে তার।

সেই ভাবনা প্রতারক হয়ে হাজির হল। সিনেমাটি তিনি কোনও রকমে শেষ করতে পারলেও সেটি মুক্তি দিতে পারছেন না। কোনও আয় না থাকলেও প্রতি মাসে নিয়মিতভাবেই যোগ হয় ঋণের সুদ। ধীরে ধীরে অভাব হয়ে ওঠে নির্মাতা পলাশের শত্রু। সেই শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ের জীবনে তিনি হঠাৎ নিজেকে একা হিসেবে আবিষ্কার করলেন। তাকে ছেড়ে গেল আত্মীয়-স্বজন।

ছেড়ে গেছে সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষ, স্ত্রীও। কন্যা দায়গ্রস্ত পিতার মতো একা একা সিনেমা মুক্তির দায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যুবক পলাশ একটা সময় বেঁচে থাকার তাগিদে হোটেলের বয় হিসেবে চাকরি নিলেন। দৈনিক ২৫০ টাকার বিনিময়ে এখন হোটেলেই কাজ করেন পলাশ। যার বুকের ভেতরে ছিল শিল্প সাধনার মন সেই পলাশ এখন হোটেলে ক্রেতাদের ভোজনবিলাসের পরিবেশক। এটাই বোধহয় নিয়তি! সিনেমার গল্প নয়, এই ঢাকার বাস্তব একটি ঘটনা। নামী অভিনেতাদের সঙ্গে যার চলাচল, ওঠাবসা তিনি আজ হোটেলে খাবার দেন।

বানিয়েছিলেন সিনেমা গন্তব্য। চিত্রনায়ক ফেরদৌস, নায়িকা আইরিনকে জুটি করে ছবিটি নির্মাণ করেছেন তিনি। আরও আছেন এ ছবিতে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, কাজী রাজু, আফফান মিতুলসহ অনেক কলাকুশলী। ছবিটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত পরিচালক ছবিটি মুক্তি দিতে পারেননি। জানা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা সংস্থার কাছে ছবিটি বিক্রির আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেছে। সিনেমাটির জন্য তারা প্রথমে ১০ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল পলাশকে। পরে তারা ৭ লাখ টাকা দেবে বলে জানান। এখন তারা দিতে চাইছেন মাত্র ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ ছবির কপিরাইট এবং বাকি এক লাখ টাকা অনলাইন স্বত্ব। এত কম টাকায় সিনেমা বিক্রি করা আদৌ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পলাশ।


সৌজন্যে : এই সময়,বিডি প্রতিদিন

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img