২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৮ অপরাহ্ন

লাইফস্টাইল
বাচতে হলে লড়তে হবে
tea

সুমন তফাদার: মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এখন ক্রমশই বাড়ছে, বর্তমান বৈশ্বিক করোনা মহামারী পরিস্থিতি মানুষের জীবন যাত্রার বিরাট পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে, যার জন্য মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে. অনুমান করা হচ্ছে আগামী দিনে এই সমস্যা সারা বিশ্বে অনেক গুণ বেড়ে যাবে আর আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে.

মানুষ তাদের জীবনে চলার পথে কোন না কোন মানসিক সমস্যা বা অসুস্থতার শিকার হতে চলেছে, বিশেষ করে আঠারো থেকে চল্লিশের ভিতরে এই সমস্যা প্রকট, যার ফলস্রুতিতে আশংকাজনক ভাবে সামাজিক অপরাধ ও আত্মহত্যার মাত্রা বেড়েই চলেছে যা সমাজের জন্য ইতিমধ্যেই হুমকি ও চিন্তার কারণ.

মানসিক সমস্যা মানেই যে মানুষিক রোগ তা কিন্তু না. অনেক কারণে মানসিক সমস্যা হতে পারে, এর মধ্যে জীনগত কারণ, বায়োলজিক্যাল ও সাইকোলজিক্যাল কারণ সম্পৃক্ত. কিছু মানসিক রোগ আছে যা মানুষকে সরাসরি আক্রান্ত করে যেমন: স্কিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia), অবসেসন (Obsession), কম্পালশন (Compulsion) ইত্যাদি, যার জন্য একজন মানসিক চিকিৎসকের (Psychiatrist) সরণাপন্ন হতে হবে.

অন্য দিকে কিছু মানসিক সমস্যা আমরা নিজেরাই তৈরি করি বা জীবন পরিক্রমা থেকে উদ্ভূত, যেমন: সাইকো-সোমাটিক ডিসওর্ডার (psychosomatic disorder) এর অর্থ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যা ও চাপের ফলে দেহে প্রকৃতই রোগের উদ্ভব হয় যার পিছনে কারণ গুলো হচ্ছে অর্থনৈতিক, পারিবারিক, প্রেম সম্পর্কিত, ছাত্র/শিক্ষিতদের কেরিয়ার জনিত কারণ ইত্যাদি, এবং আমাদের চারপাশের সামাজিক ও সংস্কৃতিগত কারণও এর মধ্যে অন্যতম.

এই উদ্ভূত সমস্যা আপনি একজন সাইকোলজিস্টের (Psychologist) ধারা কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে কিংবা নিজে একটু ধৈর্য ধরে নিম্ন বর্ণিত কাজ গুলো করলে মানসিক অবসাদ বা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন.

১ . ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা: প্রত্যেক ধর্মই শান্তির বাণী বহন করে ও আত্মাকে শীতল ও পরিশুদ্ধ করে. সুতরাং ধর্মীয় বিধান এবং ধর্ম চর্চা আপনার অবসাদ ও দুশ্চিন্তা দূর করার উত্তম মাধ্যম।

২. আপনার ডেইলি লাইফের একটা রুটিন করে নিন. রুটিন আপনি সর্ট টাইম বা লং টাইমও করতে পারেন, তবে প্রথমে সর্ট টাইম রুটিন করা আপনার জন্য সহজ ও কার্যকরী. প্রথম এক সপ্তাহ আপার ঘুম, খানি , কাজ , আড্ডার একটা নির্দিষ্ট সময় করে নিন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘুমাতে যান এবং ভোরে নির্দিষ্ট সময় উঠে পরুন. আর আপনি মুসলিম হলেতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আপনার রুটিন কাজ শতভাগ সহজ করে দিবে।

৩. নিজেকে জানার চেষ্টা করা: আপনি আপনার সমস্যা গুলোর কারন খুজে বের করুন, এগুলা সমাধানের চেষ্টা করুন, নিজে না পারলে পরিবার বা কাছের বন্ধুর সাথে কথা বলুন, হয়তো কিছু সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন আর কিছু সমস্যার সমাধান পাবেন না, মনে রাখবেন যে সমস্যার সমাধান আপনার হাতে নেই তা জোর করে সমাধান করতে যাবেন না, সেটাকে সময়ের উপর ছেড়ে দিয়ে কাজ করতে থাকোন।

৪. প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করুন: শরীর চর্চা দৈহিক ও মানসিক সাস্থের জন্য বাধ্যতামুলক. প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট শরীর চর্চায় সময় দিন, শরীর চর্চা আপনার শারীরিক ও মানসিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শুধু বাড়িয়েই দিবেনা মনকেও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।

৫. নিজেকে বিশ্বাস করুন: মানুষ অনেক অসাধ্য সাধন করেছে তবে আপনি কেন নয়. বিশ্বাস করুন আপনিও পারবেন. জীবনের শেষ শ্বাস বিন্দু পর্যন্ত যোদ্ধ করার নামই জীবন. সফল মানুষের জীবনের গল্প পড়ুন দেখবেন সফলতার পিছনে কোন ফুল বিছানো পথ ছিলনা যে উনারা রোমান্টিক গান গেয়ে সফল হয়েছেন।

৬. নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করবেন না: সৃষ্টিকর্তা প্রতিটা মানুষেকে সৃষ্টি করেছেন তার জন্য অন্যকে ইমপ্রেস করার জন্য নয়, সুতরাং জীবনের অর্থ খুজোন, রঙিন/ রুপালী পর্দার জীবনের পিছনে দৌড়াবেন না. পৃথিবীর আশি শতাংশ মানুষ রঙিন জীবনের ধারে কাছেও নেই, তুমি দুবেলা দুমুঠো খেতে পার, মাথার উপরে ছাদ আছে বিশ্বাস কর তুমি কোটি কোটি মানুষের চাইতেও সুখি।

৭. কাজকে সম্মান করা: জীবন ধারণের জন্য প্রতিটা সৎ কাজ সম্মানের এবং সওয়াবের সেটা ছোট হোক কিংবা বড়. কে কি বলল সেটা না দেখে নিজের সৎ লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ করে যাওয়া, মনে রেখো যারা তোমার ছোট কাজকে অস্মান করে তারা কিন্তু এক শ্রেণীর ক্ষমতাবান লোকের সাথে ছবি তোলার জন্য লাইনে দাড়ায় যারা ভালো করে নিজের নামও বলতে পারেনা ।

আমরা ইমোশনালি যখন কষ্ট পাই তখন যে আচরণ গুলো করি তা কিন্তু আমরা অনেকেই নিজেদের অজান্তেই উপভোগ করি আর এ উপভোগ ধীরে ধীরে রোগে পরিনত হয় যা জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়. জীবন উত্থান-পতন কষ্ট-সুখের সমন্বয় গঠিত. সুতরাং ইমোশনাল কষ্টকে আঁকড়ে না ধরে সে কষ্টকে কায়িক পরিশ্রমের কষ্টে পরিবর্তন করে জীবনের লক্ষ্যে মনোনিবেশ করা উচিত।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img