২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

হবিগঞ্জ
নবীগঞ্জে পরকীয়ার বলি হয়ে এক প্রবাসীর জীবন এখন দুর্বীসহ
tea
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত আর ৩ ছেলে সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার চোরাবালিতে পড়ে আজ সে নিঃস্ব।

ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রমজানপুর গ্রামে। রমজান পুর গ্রামের সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত অবস্থায় ধরা পড়েছেন শাহিনুর রহমান নামে এক যুবক।
মঙ্গলবার রাত ২টার সময় প্রবাসীর বাড়িতে তাকে হাতেনাতে আটক করেন এলাকাবাসী।

জানাযায়,উপজেলার ৩নং ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শেফা বেগম (৩৫) স্বামীর সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে পর পুরুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এবং যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য একই গ্রামের রুপ মিয়ার ছেলে শাহিনুর মিয়া (২৫)কে গত ২ সেপ্টেম্বর) রাতের আধারে বাড়িতে ডাকেন।

এলাকাবাসী জানান, বেশ কিছু দিন ধরে রুপ মিয়ার ছেলে শাহিনুরের সঙ্গে পাশবর্তী ইছব পুর  গ্রামের সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে শাহিনুর গোপনে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের দুজনকে ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে।  এদিকে শত শত উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।
এ ছাড়াও পারিবারিক ও এলাকা সুত্রে জানাযায়, উপজেলার রমজান পুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মালেক উদ্দিন (৪৫)এর সাথে আঠারো বছর পূর্বে একই উপজেলার কসবা গ্রামের আব্দুল হাইর বড় মেয়ে শেফা বেগম(৩৫) এর সাথে পারিবারিক ভাবে তাদের বিবাহ হয়। এবং তাদের ৩ ছেলে সন্তানও রয়েছে। 

বিয়ের পর বেশ কিছু দিন তাদের সুখের সংসার ভালই কাটছিল। পরে সংসারের  স্বচ্ছলতা ও স্ত্রীর মুখে হাসি ফুটাতে মালেক উদ্দিনের স্ত্রী  শেফা বেগমকে নিজ বাড়ীতে মায়ের কাছে রেখে সৌদি পাড়ি জমান। সৌদি থেকে প্রতি মাসে স্ত্রীর খরচের জন্য তার স্ত্রীর নামেও বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা-পয়সা পাঠাতেন। কিন্ত স্ত্রীর চাহিদা দিন দিন বৃদ্বি পেতে থাকে। 

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই স্ত্রীর আবদার মেটাতে লক্ষ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন মেলক উদ্দিনও সরল বিশ্বাসে অকাতরে টাকা-পয়সা দিয়ে গেছেন।এরই মধ্যে স্ত্রী শেফা বেগম উপজেলার ইছবপুর গ্রামের রুপ মিয়ার ছেলে শাহিনুরের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে প্রবাসে থাকায় মালেক উদ্দিনের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে প্রায় নিঃস্ব করে ফেলে।

খবর পেয়ে মালেক উদ্দিন সৌদি থেকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শেফা বেগমের বাবার উপস্থিততে ফোনের মাধ্যমে মৌখিক তালাক দেন এবং দেশে এসে আইনি ভাবে তালাকনামা পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

এতে এক বুক হতাশা আর জীবনের সর্বস্ব খুইয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। মালেক উদ্দিন বলেন আমি সাড়ে  বছর সৌদি ছিলাম। আমি আমার স্ত্রীর কাছে ২০ লক্ষাধিক টাকা  পাঠিয়েছি।এছাড়া আমি তাকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্নালংকার দিয়েছি। 

সে আমার সব কিছু নিয়ে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।আমি প্রবাসে যা আয় করেছি তার ষোল আনাই আমি আমার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি।তিনি বলেন আমি এখন কি করব বুঝে উঠে পারতেছিনা। তবে আমি ওর মত কাল নাগিনীর উপযুক্ত বিচার দেখে যেতে চাই।যেনো ভবিষ্যৎ কোন স্ত্রী প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো অর্থ নষ্ট  করে অন্যের সাথে পালিয়ে যাওয়ার দুঃসাহস না দেখে।
সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img