২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৯ অপরাহ্ন

জাতীয়
পাটকলশ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ শুরু হয়েছে
tea

ইউএস-বাংলা ডেস্কঃ বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধঘোষিত পাটকলের শ্রমিকদের পাওনা নগদ ও সঞ্চয়পত্রে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকার ডেমরায় গতকাল মঙ্গলবার করিম জুট মিলসের ৩০ জন শ্রমিকের হাতে সঞ্চয়পত্র তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী প্রধান অতিথি হিসেবে শ্রমিকদের হাতে সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। বস্ত্র ও পাটসচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

জানানো হয়, করিম জুট মিলের অবসায়ন করা ১ হাজার ৭৫৯ জন শ্রমিকের পাওনা ১৯২ কোটি টাকা; অবসরপ্রাপ্ত ৬১২ জন শ্রমিকের বকেয়া পাওনা ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ২ হাজার ৬২৫ জন বদলি শ্রমিকের পাওনা ২৫ কোটি ২১ লাখ টাকাসহ মোট ২৫১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বন্ধঘোষিত পাটকলগুলোর অবসরপ্রাপ্ত ও অবসায়ন করা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হলো। প্রয়োজনীয় নিরীক্ষা শেষে একই প্রক্রিয়ায় বাকি কলগুলোর শ্রমিকদের পাওনাও শিগগির বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

গত ১ জুলাই থেকে বিজেএমসির বন্ধঘোষিত ২৫টি পাটকলের ২৪ হাজার ৬০৯ জন স্থায়ী শ্রমিকের পাওনা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা এবং ২০১৩ সালের পর থেকে অবসরপ্রাপ্ত ১০ হাজার ১০৭ জন শ্রমিকের গ্র্যাচুইটি, ভবিষ্য তহবিল ও ছুটি নগদায়ন বাবদ পাওনা প্রায় ১ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৫ হাজার কোটি টাকা।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পর্যায়ক্রমে তিনটি অর্থবছরে বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের আর্থিক দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে পুরো পাওনা চলতি অর্থবছরে এককালীন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে শ্রমিকদের ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে প্রত্যেকের পাওনার ৫০ শতাংশ নগদে এবং বাকি ৫০ শতাংশ তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ৬০ দিনের নোটিশের পরিবর্তে কাজ করা ছাড়াই শ্রমিকদের জুলাই ও আগস্ট মাসের মজুরি দেওয়া হয়েছে। আর অর্থ বিভাগ করিম জুট মিলের শ্রমিকদের পুরো পাওনা ছাড় করেছে।

বিজেএমসির অর্থায়নে বিভিন্ন পাটকল এলাকায় বর্তমানে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিদ্যালয়গুলো ক্ষেত্রমতে সরকারীকরণ ও এমপিওভুক্তির মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img