২২ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

মুক্তমত
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস
tea
"মোঃ আজিজুর রহমান"
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ বছর দিবসটি প্রতিপাদ্য হল ”Teachers: Leading in crisis, Reimagining the future. শিক্ষকরা- সংকটে নেতৃত্ব দেন,ভবিষ্যত পূণঃর্নির্মাণে"। শিক্ষকেরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর।বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পালন করা হয়।বিশ্বের সব শিক্ষকের অবদানকে স্মরণ করার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কোর ডাকে এ দিবসটি পালন হয়ে থাকে। ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

যে কোনও ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানী,
প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আমলা, রাজনীতিবিদ, গুণী ব্যক্তিবর্গ ও প্রকৃত একজন মানুষ তৈরির পিছনে রয়েছেন যেকোনো একজন শিক্ষকের অবদান।এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু দেশের শিক্ষাক্ষেত্র সরকারী ও বেসরকারী দুইটি ভাগে বিভাজনের কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে।

যুগে যুগে এই বৈষম্য শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়সম ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক যে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কর্মে যোগদান করেন তদ্রূপ যোগ্যতার আলোকে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মে পদায়ন হন। একজন সরকারি শিক্ষকের ন্যায় একজন বেসরকারি শিক্ষকও সম কর্মঘন্টা, একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষাদান করেন।কিন্তু বেসরকারি শিক্ষকরা বহুলাংশে বেতন বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এই বৈষম্যে দূরীকরণে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন।শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকনেতৃবৃন্দের অভিমত বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

সরকার ঘোষিত জাতীয় বেতন কাঠামোতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া ভাতা ১,০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা, উৎসব ভাতা মূল বেতনের চারভাগের একভাগ। পক্ষান্তরে সরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৪৫% বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, ১০০% উৎসব ভাতা, ২০% বৈশাখী ভাতা, শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ, আবাসন সুবিধা,
পেনশনের সুবিশাল সুবিধা পেয়ে থাকেন।

শিক্ষাব্যবস্থায় দুটি ভাগে বিদ্যমান থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বৈষম্যের মধ্য রয়েছেন।তাছাড়া দারিদ্র্যসীমায় বাস করা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থীদের অর্থের অভাবে শিক্ষাজীবন অকালে ঝরে যাচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের সমাধানে শিক্ষা ব্যবস্থার সকল স্তরকে জাতীয়করণের মাধ্যমে এক ও অভিন্ন কাঠামোতে গড়ে তুলতে সরকার নীতিগতভাবে অঙ্গীকার করলেও এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।তাই জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে সাড়ে পাঁচ লাখ বেসরকারী শিক্ষক/কর্মচারীদের দাবি, সরকারী-বেসরকারী বিভাজন আর নয়, এখনই সময় বৈষম্য দূর করে শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনয়ন করা অতীব জরুরি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে দেশের সকল স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ করে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ বাস্তবায়ন হোক ঐতিহাসিক মুজিববর্ষের দৃঢ় অঙ্গীকার।

লেখকঃশিক্ষক ও সাংবাদিক
সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img