২২ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

সারা দেশ
‘এ লজ্জা কোথায় রাখি? কোন সমাজে আমাদের বসবাস?’
tea

ইউএস-বাংলা ডেস্কঃ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও নিয়ে সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি তাদের কণ্ঠে। মূল ধারার গণমাধ্যমের পাঠকেরাও তীব্র নিন্দা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্তব্যের ঘরে।

ফয়জুল্লাহ আমান নামের এক পাঠক প্রথম আলোর এ সংক্রান্ত সংবাদে মন্তব্য করেছেন, ‘এ লজ্জা কোথায় রাখি? কোন সমাজে আমাদের বসবাস? পশুও আমাদের দেখে মুখ লুকোবে।’ মাহমুদ করিম নামের আরেক পাঠক বলেছেন, ‘দ্রুত বিচার করে তা কার্যকর করতে হবে। মানুষ বিচার না পেয়ে অসহায় বোধ করছে। বিচারের আশাও বোধ হয় এখন আর কেউ করে না! এই অবস্থার নিরসন দরকার।’ মুজাহিদ খান নামের এক পাঠক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে কে? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলছে। আমাদের নৈতিকতা বিবেক আজ কোথায়?’

প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে শেয়ার করা এই সংবাদে রুহুল আমিন নামের এক পাঠক মন্তব্য করেছেন, ‘ধর্ষকেরা মঙ্গলগ্রহ থেকে আসে না। এরা এই পৃথিবীরই লোক। এরা যেকোনো একটা পরিবার থেকে উঠে আসে। এরা সমাজের একটা অংশ। এখন সময় এসেছে সামাজিকভাবে এদের বয়কট করার। যার যার পরিবারের প্রত্যেককে এই বলে শপথ নিতে হবে—আমার পরিবারের কোনো পুরুষ ধর্ষণকাজে অংশগ্রহণ বা সহায়তা করবে না। আমি আমার পরিবারের দায়িত্ব নিলাম। আপনিও আপনার পরিবারের দায়িত্ব নিন। রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে যেন একটি ধর্ষকও বিচার থেকে রেহাই না পায়। তবেই দেশ এই নির্মম ব্যাধি থেকে মুক্তি পাবে।’

নোয়াখালীর এই ঘটনা গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকের। তবে এ ঘটনায় গতকাল রোববার বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ওই নারী মামলা দুটি করেন। ঘটনার পর যে ভুক্তভোগী নারী মামলা করেননি, এর জন্য আস্থাহীনতাকে দায়ী করেছেন মনিরুল ইসলাম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী। তিনি বলেন, ‘এক মাস আগে এত বড় ঘটনা ঘটলেও তাঁরা পুলিশের কাছে যাননি। কারণ, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নেই। বিচার চাইতে গেলে উল্টো তিনি অনেক ঝামেলায় পড়তেন।’

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করে আলমগীর কবির খান নামের একজন সংবাদটির মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘এসব অপরাধী যদি উপযুক্ত শাস্তি ভোগ না করেন, তাহলে পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের অপরাধ করতে বিন্দুমাত্র ভাববেন না। তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়াই উত্তম।’ যাদের ছত্রচ্ছায়ায় এ ধরনের অপরাধ করার সাহস আসামিরা দেখাচ্ছেন, তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেক মন্তব্যকারী। আক্তারুজ্জামান বাদল নামের একজন লিখেছেন, ‘যারা এই ধর্ষক তৈরি করে, তাদের আগে আইনের আওতায় আনা উচিত। একদিনে তো তাঁরা এত বড় অপরাধী হননি।’

ঘটনার এত দিনেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনা করেছেন ইব্রাহিম খলিল দিপু নামের একজন মন্তব্যকারী। তিনি বলেন, ‘ঘটনার ২০ দিন পর কেন প্রশাসনের টনক নড়ে? এর আগে কেন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করতে পারেনি ভুক্তভোগী? ফেসবুকে ভাইরাল হলেই বিচার হবে? নয়তো এ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়েও বিচার পাওয়া যাবে না?’ ইব্রাহিম রহমান নামের একজনের মন্তব্য, ‘আজকে ভিডিও দেখে আমার বিচার চাচ্ছি। এ রকম হাজার মা-বোনের নির্যাতনের কোনো ভিডিও নেই। তাঁরা সামাজিক অপমানের ভয়ে আইনের সহযোগিতা নিতেও সাহস পান না।’ মোস্তাকিম রাসেলসহ অনেক পাঠকই ধর্ষণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img