২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান জানালেন অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন
tea

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতক উপজেলার সমতা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে স্হানীয় একটি মহল।এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এবার নিজের অবস্থান জানালেন অধ্যক্ষ। 


তিনি বলেন, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। এ পেশায় শতভাগ সাফল্য কষ্টসাধ্য। শিক্ষা জীবন শেষ না হতেই আমি এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত হই। আমি ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে যোগদান করে অদ্যাবধি এ পেশায় নিয়োজিত আছি।যোগদানের পর থেকে আজ অবধি প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছি কিভাবে এ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া যায়।সেই ভাবনা থেকে কখনো একটি বারের জন্যও এ প্রতিষ্টান ছেড়ে যেতে মন চায়নি যদিও অনেক ভালো ভালো সুযোগ আমার সামনে এসেছিলো।প্রায় ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনে আমার অনেক সফলতা আছে।

আমার অনেক ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিভিন্ন পেশায় আসীন হয়েছে,অনেকে দেশে বিদেশে সুনামের সাথে কর্মজীন কাটাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সফলতা দেখে না পাওয়ার হিসেব কখনো করিনি।অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এই এলাকার মানুষ তথা সাবেক ছাত্রছাত্রীরাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। 


প্রতিষ্টান প্রধান হিসেবে যোগদানের পর থেকেই একঝাঁক প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্যমী শিক্ষকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন করার সাধ্যমত চেষ্টা করে আসছি। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছি।শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য রুটিন মাফিক নিয়মিত পাঠদানের ব্যবস্হা সহ নানা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। সমতা স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিটি ধূলিকণার স্পর্শ আমার শরীরে ও মনে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে।


অনেকবার নিজের পরিবারের সমস্যাকে প্রাধান্য না দিয়ে আমার প্রাণপ্রিয় কর্মস্থলের উন্নয়নে দিনরাত ছুটে চলেছি এখান থেকে সেখানে। কখনো রোঁদে পুড়ে, কখনো ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত কে উপেক্ষা করে, বন্যার বিপদসীমার পানি অতিক্রম করে ছুটে এসেছি এই প্রতিষ্ঠানে-তার কোনো ইয়ত্তা নেই।কেননা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমার কাছে সন্তানের মতো।

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি, মূল্যায়ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে।দেশ-বিদেশ থেকে আমার সাবেক শিক্ষার্থীসহ অনেকেই বিষয়টি জানার জন্য আমাকে ফোন করছেন। 

কোন অশুভ শক্তির ইন্ধনে একটি মহল ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ও আমার সুনাম ক্ষুন্ন করছে, আমি অবহিত নই। এতে আমি খুব বিচলিত, মর্মাহত ও বাকরুদ্ধ হয়েছি। নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।প্রকাশিত খবরগুলো জনমনে, সমতা স্কুল এন্ড কলেজ সম্পর্কে মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।এ জন্য সবার কাছে আমার অবস্থান স্পষ্ট করার অনুভব করছি।

আমি এলাকার মুরিব্বিয়ানদের বিনয়ের সহিত অনুরোধ করে বলছি,যে একটি মহল আমার উপর অভিযোগ এনেছে সে সম্পর্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে আপনারা জবাবদিহিতা করেন।আমি আমার উপর অভিযোগের যথোপযুক্ত জবাব দিতে সর্বদা প্রস্তুত আছি।কিন্তু আমার সাথে কোনো পূর্বালোচনা না করে যারা নানা অপবাদ ছড়াচ্ছে তারা প্রতিষ্ঠানের ও আমার মান ক্ষুন্ন করেছে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে আমার উপর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত করেন। আমি তদন্তের বিরুদ্ধে নই। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যথাযথ হলে তদন্তে আমার শতভাগ সম্মতি আছে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আইনসিদ্ধভাবে গঠিত পক্ষপাতহীন।


আমি প্রায় ৩৮ বছর ধরে শিক্ষকতার মহান পেশায় জড়িত। সমতা স্কুল এন্ড কলেজের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছি। দীর্ঘ এ সময়ে আমার ও আমার প্রাণের বিদ্যাপীঠের যে সুনাম অর্জিত হয়েছে,সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড়প্রাপ্তি। কলেজ শাখার ১ম এইচএসসি ব্যাচের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, যা সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে ফলাফলের শীর্ষে ছিল সমতা স্কুল এন্ড কলেজ। প্রতিবছর এসএসসি, জেএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস সহ প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে আসছে। এবার করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা স্থবির হয়ে যাওয়ায়, শিক্ষামন্ত্রনালয় কর্তৃক ঘোষিত ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু হয়।

সমতা স্কুল এন্ড কলেজের প্রত্যেক শিক্ষক নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে করোনার শুরু থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সফলভাবে পাঠদান সম্পন্ন করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর ২০২০ ইং তারিখে গোবিন্দগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের মৌখিক নির্দেশনায়, পাঠদানে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখনফল অর্জিত হয়েছে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ করি। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন পরিশোধে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট আনুসঙ্গিক খরচ মেটাতে ফি আদায় করা হয়েছে। কিন্তু কতিপয় দুষ্কৃতকারী ব্যক্তিবর্গ তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টায়,আমার উপর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নোংরামির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে যা দ্বারা আমার ও

প্রতিষ্ঠানের সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই আমি এই ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অপবাদকারীদের বিচার সুশীল সমাজের কাছে ছেড়ে দিলাম।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img