১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ
ছাতকে গ্রাম্য বিচারের নামে প্রহসন ! ৫টি পরিবারকে সমাজচ্যুত ঘোষণা
tea

ছাতক প্রতিনিধিঃ পঞ্চায়েতের সালিশে না যাওয়ায় ৫টি পরিবারকে গত ২১ দিন ধরে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে।

এ সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় ৫টি পরিবারকে একঘরে বা সমাজচ্যুত ঘোষনা করেছেন সালিশ কমিটির সভাপতি মাস্টার মোস্তাবুর রহমান মোস্তাক, সালিশ বৈঠকে উপস্থিত গ্রাম্য মাতব্বর সৈয়দ আহমদ কবির, জহির মিয়া মনির উদ্দিন, কছির আলী, জামাল মজুমদার ও মনু মিয়া সহ অন্যান্য মাতব্বররা তাদেরকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেন। 

এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন ও উপস্থিত ছিলেন।জানা যায়, উপজেলার ছৈলা

-আফজলাবাদ ইউপির বিনোদপুর গ্রামের আব্দুল খালিক মনাই ও আকবর আলীর মধ্যে জমি সংত্রুান্ত বিরোধ নিয়ে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় জের ধরে এলাকার প্রভাবশালী মাতব্বররা সালিশ ডেকে গত ২৩ নভেম্বর এলাকাবাসীর উদ্দ্যোগে ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের খলাগাও গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের বাড়িতে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্টিত হয়।

এ সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় ৫টি পরিবারকে একঘরে সমাজচ্যুত ঘোষনা করা হয়।তারা হচ্ছেন কবি আব্দুল আজিজ চৌধুরী, আছরব আলী, রহমত আলী রফিকুল ইসলাম ও আব্দুল হামিদ চৌধুরী। তাদের কথামতো সালিশে না উপস্থিত না হওয়ায় ৫টি পরিবারকে একঘরে সমাজচ্যুত ঘোষনা করেছে গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বররা। 

এছাড়া তারা বলেন সরকারি কিংবা পঞ্চায়েতের কোন রাস্তায় চলাচল করলেই দেখা মাত্র মারপিট ও হত্যা করার হুমকি দেয় দুর্নীতিবাজ মাতব্বররা।

গত ২৫ নভেম্বর আছরব আলী তার বাড়ি থেকে সুনামগঞ্জ জেলা-দায়রা জর্জকোর্টে মামলার হাজিরা দিতে, তার বাড়িতে থেকে সুনামগঞ্জ যাবার পথে বিনোদপুর-গোবিন্দগঞ্জ সরকারি রাস্তায় গোবিন্দগঞ্জ কলেজ মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পৌছা মাত্র তার প্রতিপক্ষের লোকজন দেশী অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় নিস্পতির করার লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বিনোদপুর গ্রামের আছরব আলীর কাছে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাাফিক পয়েন্ট একটি দোকানে বসে দশহাজার টাকার ঘুষ দাবি করেন।

এ টাকা না দেয়ায় সালিশ কমিটির সভাপতি ক্ষুব্ধ হয়ে ৫টি পরিবারকে একঘরি করার সিদ্ধান্ত দেয়। পরে বাধ্য হয়ে ১৪ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ ৭জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বরাবরে বিনোদ পুর গ্রামের আছরব আলী বাদী হয়ে গত সোমবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এব্যাপারে সালিশ কমিটির সভাপতি মাস্টার মোস্তাবুর রহমান মোস্তাক তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সালিশ কমিটি সভাপতি ছিলেন। একঘরি করার কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এব্যাপারে ইউপি মেম্বার আব্দুল মতিন জানান সালিশ বৈঠক অনুষ্টিত হয়েছে সত্য, কিন্ত সামাজিক বয়কট এমন সিন্ধান্ত নেয়া হয়নি।

আছরব আলী জানান, ২১ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রাস্তায় বের হলে মাতব্বর পক্ষের লোকজন আমাদের এক ঘরে করার বিষয় নিয়ে বিরুপ (টিটকারি) করছে ও বলছে মামলা ও অভিযোগ দিয়ে কি হবে। কিছু করতে পারবে না। সারা জীবন একঘরে থাকতে হবে। 

ইউএনও মো, গোলাম কবির জানান, ‘বিষয়টি কেউ জানায়নি। তারা এটা কোনোভাবে করতে পারেন না। আমি খোঁজ নিচ্ছি। যারা এটা করেছেন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ অভিযোগ প্রাপ্তি এ ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তপুবক ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img