১৬ এপ্রিল ২০২১, ০২:১২ অপরাহ্ন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সিলেট আবাসন কোম্পানীর চেয়ারম্যান, এমডির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
tea

ইউ-এস বাংলা ডেস্কঃ সিলেটের এক আবাসন কোম্পানীতে ঘটছে তুঘলুকি কারবার। কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও এমডি’র বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম, যথেচ্ছাচার, জোর -জালিয়াতি করে পদ আঁকড়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ৬৬ পরিচালকের ৬৫ জন পরিচালকই চেয়ারম্যান এর কাছে জিম্মি । অবৈধ ক্ষমতা বলে ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কোম্পানীর জায়গা বিক্রি করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন কোম্পনীর চেয়ারম্যান দাবীদার ঐ ব্যক্তি। এমন অভিযোগ এনে অধিকাংশ পরিচালকের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পত্র দেয়া হয়েছে। একইভাবে সিলেটের রেজিস্টার বরাবরে অপর একটি পত্রে অত্র কোম্পানীর সম্পূর্ণ বা আংশিক কোন ভূমি কোনরুপ জালিয়াতির মাধ্যমে  ঐ চেয়ারম্যান বিক্রি করতে না পারেন এমর্মে বিহিত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কোম্পানী চেয়ারম্যান দাবীদার ঐ ব্যক্তির অনিয়ম দূর্নীতির যাঁতাকল থেকে মুক্তি পেতে দেশে বিদেশে থাকা পরিচালকরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। করছেন ভার্চুয়াল সংলাপ।

জন্ম থেকে ভেজাল আর অনিয়মে ভরা এই কোম্পানীর নাম আবাসন এসোসিয়েটস (প্রা) লিমিটেড। পরবর্তীতে আবাসন ডেভোলাপার্স (প্রা) লিমিটেড নামে আরেকটি কোম্পানী করে আবাসন এসোসিয়েটস এর সাথে যুক্ত করা হয়। ২০০৪ সালে কোম্পানীটির গোড়াপত্তন হয়। নগরীর আম্বরখানায় অত্যাধুনিক শপিংমল নির্মাণসহ আবাসন ব্যবসার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখিয়ে দেশী- প্রবাসী মানুষের কাছ থেকে নেয়া হয় কয়েক কোটি টাকা। কোম্পানীটির উদ্যোক্তা আব্দুল হামিদ সহ নগরীর কয়েকজন বনেদী ব্যবসায়ী। কিন্তু কোম্পানী প্রতিষ্ঠা এবং আম্বরখানায় প্রায় ১শ ডেসিমেল জায়গা ক্রয়ের পরই কোম্পানীর নেতৃত্ব চলে যায় অসাধুচক্রের হাতে। মাহবুবুল হক শেরীন কোম্পানীর চেয়ারম্যান পদে অধিষ্টিত হন। পরিচালকদের অধিকাংশের অভিযোগ জাল স্বাক্ষর স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিয়ে শেরীন চেয়ারম্যান হন। মাহবুবুল হক শেরীন জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসী ইউপি চেয়াম্যান। তিনি শাসকদলের নেতা বলেও দাবী করেন। গত কুরবানী ঈদের পর ট্রাকে করে পঁচা চামড়া এনে তিনি শহরে ফেলে গিয়েছিলেন। প্রায় এক যুগের অধিক সময় ধরে শেরীন কোম্পানীর চেয়ারম্যান এর পদ আঁকড়ে রেখেছেন। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এক যুগের অধিক সময়ে কোম্পানীর কোন উন্নয়ন অগ্রগতি নেই। নেই কোন হিসেব, নেই কোন  জবাবদিহিতা। চেয়ারম্যান শেরীনই যেন দন্ডমুন্ডের কর্তা। কারো কথা শুনতে তিনি নারাজ। কোন পরিচালককে পাত্তা দেন না। অবশ্য প্রবাসী কয়েকজন পরিচালকের আস্কারায়ই শেরীন আজ বেপরোয়া। ২০১৫ সালে আব্দুল হামিদকে চেয়ারম্যান মনোনীত করেন পরিচালকরা। হামিদ তিন মাস চেয়ারম্যান থাকতে পারেননি। মামলা হয়রানী হুমকী ধমকি দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়ে শেরীর চেয়ার দখল করেন।

পরিচালকদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে রাঘব বোয়ালদের নানা অপতৎপরতা। মুলত: চেয়ারম্যান এবং গুটিকতেক পরিচালকের যোগসাজসে চলছে এ অপতৎপরতা। আম্বরখানায় কোম্পানীর প্রায় ১শত ডেসিমেল জায়গার ওপরই এদের লোলুপ দৃষ্টি। চেয়ারম্যান শেরীন এই জায়গা বিক্রি করে দিতে চান। এতে শঙ্কিত লগ্নিকারী পরিচালকরা। তাদের ভাষ্যমতে, “শেরীনের পকেটে টাকা গেলে কি আর পাওয়া যাবে?” সুত্রমতে, শেরীন এই জায়গা বিক্রি করে মোটা অংক হাতিয়ে নেবার স্বপ্নে বিভোর। সুত্র বলছে, সিলেটের একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শেরীন এই জায়গা বিক্রির কথাবার্তা প্রায় চুড়ান্ত করে ফেলেছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি মোটা অংক কমিশন চান।  যিনি নিজেকে চেয়ারম্যান বলছেন,তিনিই কমিশন চাইছেন। সংশ্লিষ্ট ক্রেতাদের সন্দেহ হয়। তারা সরে দাঁড়ায়। সম্প্রতি শেরীন এই জায়গার ওপর একটি সাইনবোর্ড টানান, জায়গা বিক্রি হবে লিখে। অন্যান্য পরিচালকরা তা নামিয়ে ফেলেন।


অভিযোগ অনিয়মের পাহাড় মাহবুবুল হক শেরীনের বিরুদ্ধে। এমডি দাবীদার ফতেহ আহমদ চৌধুরী শাহিনের বিরুদ্ধেও অযোগ্যতা অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার বিস্তর তথ্য পাওয়া গেছে। আমেরিকায় বসে এমডির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আবাসন এসোসিয়েটস, আবাসন ডেভোলাপার্সের ব্যানারে পরিচালিত হয়। কিন্তু আবাসন ডেভোলাপার্সের নামে কোন জমি নেই। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালক  শেয়ার হোল্ডারদের রয়েছে শঙ্কা উদ্বেগ।

আবাসন এসোসিয়েটস ও আবাসন ডেভোলাপার্সের হৃদয়কাড়া শ্লোগানে আকৃষ্ট হয়ে লগ্নি করেছেন প্রায় শত মানুষ। যাদের অধিকাংশ প্রবাসী। অনিশ্চিত গন্তব্যে তাদের বিনিয়োগ। দেশে বিদেশে অবস্থানরত পরিচালকদের হাহাকার চিৎকার।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত মন্তব্য

img
img
img